মৌলভীবাজার, ৭ আগস্ট : মৌলভীবাজারের মনু সেচ প্রকল্পের কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতির কারণে কাউয়াদিঘি হাওরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে আমন ধানের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাওরপাড়ের কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, ফসল হারিয়ে তারা যখন দিশেহারা, তখন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
কাউয়াদিঘি হাওরের আমন ধান রক্ষা এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বুধবার (৬ আগস্ট) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির উদ্যোগে দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আইনজীবী হুমায়ূন রশীদ সুয়েব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আ স ম ছালেহ সোহেল, কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এম খছরু চৌধুরী, মহিলা নেত্রী সাদিয়া নোশিন চৌধুরী, প্রফেসর মো. সেলিম, সাংবাদিক সালেহ এলাহি কুটি,কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুলেমান মিয়া, সামছুদ্দিন মাস্টার, মো. খায়রুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, মো. ফজলুর রহমান, সিপিবি নেতা জহুর লাল দত্ত, কয়েছ মিয়া, একাটুনার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ রুমেল আহমদ, কামাল হাসান, দুলাল তরফদার, ছাত্রনেতা জ্যোতিষ মোহান্ত, মোহাম্মদ মুজিব মনসুর, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবির খান, ডাঃ রওশন আহমদ, জয়েল আহমেদ, রাজন মিয়া, ও শামীম আহমেদ প্রমুখ।
কৃষকরা এ পরিস্থিতির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) দায়ী করে অভিযোগ করেন, মনু সেচ প্রকল্পের পাম্পের মাধ্যমে নিয়মিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পের ৮টি পাম্প নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে তারা সময়মতো আমনের চারা জমিতে রোপণ করতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। তারা অবিলম্বে মনু সেচ প্রকল্পের সব পাম্প সচল করে সার্বক্ষণিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন কৃষকরা। সমাবেশ শেষে কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। পরে কৃষকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এদিকে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট এবং গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে-এর কেন্দ্রীয় কনভেনর কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর এক বিবৃতিতে কাউয়াদিঘি হাওরের কৃত্রিম জলাবদ্ধতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মনু সেচ প্রকল্পের কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতির কারণে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ফসল হারিয়ে কৃষকরা যখন দিশেহারা, তখন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এ পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক পাম্প চালু করে দ্রুত হাওরের পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।
মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, কাসিমপুর পাম্প হাউস বর্তমানে কৃষকদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশন ও কৃষি রক্ষার স্বার্থে মনু নদী ও মাগুরা নদী দ্রুত খননেরও জোর দাবি জানান তিনি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আবারও স্বাভাবিকভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :